Start Planning
গান্ধী জয়ন্তী

গান্ধী জয়ন্তী 2020, 2021 এবং 2022

২ অক্টোবর ভারতে গান্ধী জয়ন্তী উদযাপন করা হয় এবং এই বার্ষিক উদযাপনটি আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতীক হিসাবে উদযাপিত হয়।

বছরতারিখদিনছুটিররাজ্য
20202 অক্টোবরশুক্রবারগান্ধী জয়ন্তী জাতীয়
20212 অক্টোবরশনিবারগান্ধী জয়ন্তী জাতীয়
20222 অক্টোবররবিবারগান্ধী জয়ন্তী জাতীয়

গান্ধীর জীবন ভারতে এবং বিশ্বজুড়ে, কিভাবে সহজভাবে এবং নিখুঁতভাবে জীবনযাপন করা যায় তার উদাহরণ হিসেবে ভক্তি ভাবে স্মরণ করা হয়। তার জন্মদিনে, অক্টোবরের ২ তারিখ, ভারত জুড়ে মানুষ গান্ধী জয়ন্তী উদযাপন করার জন্য একত্রিত হয়। সবাই তার অনুরূপ ছবি এবং মূর্তিতে ফুল প্রদান করে, গান গায়, প্রার্থনা করে, এবং মোমবাতি প্রজ্বলন করে। এই ছুটির দিনে সকল সরকারি অফিস, ব্যাংক, ডাকঘর এবং স্কুল বন্ধ থাকে।

গান্ধী কে ছিলেন

মহাত্মা গান্ধীর জন্ম গুজরাটের পোরবন্দরে, একজন ঊর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তার পরিবারে। ১৩ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন, তারপর আইন অধ্যয়ন করার জন্য ১৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে যান। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত ভারতীয়দের অধিকারের জন্য লড়াই করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান, তারপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে ভারতে ফিরে আসেন। “জাতির পিতা” হিসাবে বিবেচিত হওয়ার পর, ভারত যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বারা শাসিত হচ্ছিলো তখনকার যুগে গান্ধী ভারতীয় জাতীয়তাবাদের নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।

ভারতবর্ষে, গান্ধী স্বাধীনতার জন্য অহিংস ভাবে প্রতিবাদ করতে ভারতের জনগণকে একত্রিত হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। তার এই কৌশল দ্রুত অনুরূপ আন্দোলনের জন্য সারা বিশ্বে একটি অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা হিসেবে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে শান্তিপূর্ণভাবে মুক্ত করার জন্য তার নির্ধারিত কৌশল অব্যাহত রেখেছিলেন।

১৯৪৬ সালে, তিনি একটি নতুন সাংবিধানিক কাঠামো সুপারিশ করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ মিশনের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাদের সাথে আলোচনা করেন। স্বাধীনতার সময় এবং এর পরবর্তীকালে, যখন গান্ধী বাংলায় হিন্দু-মুসলমান সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করছিলেন তখন তাকে হত্যা করা হয়।

কেন গান্ধীকে স্মরণ করা হয়

ভারত ও সারা পৃথিবীতে গান্ধী একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর জীবন ও নীতি সব বয়সের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। জীবন এবং ক্ষমা নিয়ে তার সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হলো, “আমার জীবন হলো আমার বার্তা” এবং “দুর্বলরা কখনও ক্ষমা করতে পারেন না। ক্ষমা শক্তিশালীদের একটি বৈশিষ্ট্য।”

ভারতের জন্য, তিনি সহনশীলতা দেখিয়েছেন এবং একজন ব্যক্তি হিসাবে ব্রিটেন কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতা আদায়ের জন্য শক্তিশালী ভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করে ছিলেন। মানুষ তার পদ্ধতি, তার দৃঢ়সংকল্প এবং সকল মানুষের এবং শান্তির জন্য তার ভাল উদ্দেশ্যের জন্য শ্রদ্ধা ও ভক্তি করে।

অনেক ভাবে, গান্ধীকে একজন যুদ্ধ-বিরোধী কর্মী হিসেবে মনে করা হয়। তার সংগঠিত প্রতিবাদের পদ্ধতি আজও বিশ্বে প্রতিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত সময়ের পর, তার প্রতিবাদ সকল ধরনের মানুষের উপর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি অনেক ভিন্নভাবে শান্তির একটি আন্তর্জাতিক প্রতীক হয়ে উঠেছেন।